অপকর্মের বিচার থেকে বাঁচতেই পালিয়েছে আওয়ামী লীগ: চরমোনাই পীর।
ছবি সংগৃহীত
পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজ, খুনি ও জুলুমবাজদের আগামীতে ক্ষমতায় নেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। বৃহস্পতিবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন তিনি।
নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ চত্ত্বরে ‘ছাত্র-জনতার গণ অভ্যূত্থানে সংগঠিত গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন, নোয়াখালীতে জলাবদ্বতা নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইসলামি সমাজভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ এই গণসমাবেশ আয়োজন করা হয়।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। অসীম ক্ষমতা মানুষকে নিশ্চিতভাবে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত করে। আমাদের সংবিধান সরকারকে অসীম ক্ষমতা দেয়। এ কারণেই বাংলাদেশের যেকোনো সরকারই দানবে পরিণত হয়।’
চরমোনাই পীর বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে যারা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর করে দিয়ে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দেশকে দেউলিয়া করে ফেলেছে এবং সর্বত্র জুলুম–নির্যাতনের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল– সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।’
’৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও বিগত সরকারের আমলে আমরা পরাধীন ছিলাম মন্তব্য করেন মুফতি রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরে আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তাই এ অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে।’
চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘আগামীতে পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজ, খুনি ও জুলুমবাজদের ক্ষমতায় নেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ নিজেদের দেশের মালিক আর জনগণকে তাদের দাস মনে করেছে। তাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বললেই খুন–গুম করেছে। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে জানিয়ে জনগণকে মিথ্যে গল্প শুনিয়েছে। অথচ দেশের কোনো ব্যাংকে টাকা নেই। সব টাকা তারা বিদেশে পাচার করে নিয়েছে। বৈদেশিক ঋণের চাপে দেশের অগ্রযাত্রা থমকে যাচ্ছে। তাদের সকল অপকর্মের বিচার থেকে বাঁচতেই তারা পালিয়ে গেছে।’
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার জন্য বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন অভিযোগ করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে জেলে নিয়ে গিয়ে মানুষকে নির্যাতন করেছেন। বাংলাদেশের মানুষকে একটা ভীতির রাজত্বে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই তিনি যখন ছাত্র, শ্রমিক, জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পালিয়ে গেছেন, তখন এ দেশের মানুষ হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা নজীর আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশ উদ্বোধন করেন নোয়াখালী জেলা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে প্রমাণিত হয় জুলুম করে, অত্যাচার করে, জনগণের কণ্ঠরোধ করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য কেবল জুলাই বিপ্লব সংগঠিত হয়নি। এই বিপ্লব রাষ্ট্রের সকল বৈষম্য দূর করার বিপ্লব, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লব।’
মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, ‘হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এদেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি সুখি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে চায়। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যাতে ১৮ কোটি মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।’
মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী বলেন, ‘শেখ হাসিনার মতো একটি পুতুল ফ্যাসিবাদী সরকারকে আমাদের ওপর চাপিয়ে বন্ধুরাষ্ট্রের নামে ভারত এদেশে যেসব অনাচার করেছিল, আমরা তার কিছুই ভুলিনি। ভারত সেসবের দায় এড়াতে পারে না।’
গণসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা ফিরোজ আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা খলিলুর রহমান, ছাত্রনেতা নুরুল বশর আজিজী, মাওলানা আবুল কাশেম আমিনী, জেলা সহ–সভাপতি মাওলানা ইউসুফ ভূইয়া, সেক্রেটারি মাওলানা আলাউদ্দিন হারুন, মাওলানা কামাল উদ্দিন, কাউসার আহমাদ, মুদ্দাচ্ছির হোসাইন, নুরুদ্দিন আমানতপুরী, ইকবাল হোসাইন, দিদার হোসাইন, মু. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️⬇️
No comments:
Post a Comment